কুমার বিশ্বজিত রায় ।। ঢাকা, এপ্রিল ৭, ২০১৯: বর্তমানে বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির পথে হাটছে এমন একটি দেশ বাংলাদেশ। তিনশ চব্বিশ বছর প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা সেই দেশটি কিছু আগে পরীক্ষা চালিয়েছে ফাইভজি প্রযুক্তির। যা ২০১৮ সালে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশ করতে পেরেছে।
আর এতে প্রযুক্তিগত সার্বিক সুবিধা দিয়েছে হুয়াওয়ে। যাদের সহযোগিতায় ঢাকায় ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। যদিও ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টুজি, থ্রিজি থেকে ফোরজি প্রযুক্তিতে পা দিয়েছে।
বিশ্বের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ যেখানে ফাইভজি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে, সেখানে বাংলাদেশও এ থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফাইভজি চালু করেছে। যদিও বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এ প্রযুক্তি চালু করা হবে।
সরকারের সেই প্রচেষ্টা আরো ত্বরান্বিত করতে এবং বাংলাদেশে ও বিশ্বে ফাইভজির গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে জানাতে ‘অ্যাডভ্যান্সিং ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক পাঁচদিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।
আজ (৭ এপ্রিল) সকালে গুলশানে হুয়াওয়ের কাস্টমার সল্যুশন ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ট্রিগেশন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে (সিএসআইসি) এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য ‘ফাইভজি ইজ অন’।

রোববার হতে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্কিং ইক্যুইপমেন্ট, ইন্টিগ্রেশন এবং ভ্যালু ক্রিয়েশনসহ ডিজিটাল ইনক্লুশনের বিভিন্ন ফিচার প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কিভাবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশ নিতে পারে সেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এই প্রদর্শনীতে।
হুয়াওয়ে টেকনোলজি বাংলাদেশের সিটিও জেরি ওয়াং এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানান, বিশ্ব ও বাংলাদেশের জন্য ফাইভজি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি মানুষ, বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল সেবা দিতে তারা কাজ করছে।

‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল রূপান্তরের আর্থ-সামাজিক সুবিধার সম্ভাব্যতা, জীবনের সব ক্ষেত্রে কিভাবে ফাইভজি ভ্যালু চেইনকে প্রভাবিত করবে, অপারেটরদের আকাঙ্ক্ষা, ফাইভজি সক্ষমতা ও ব্যবহারের চিত্রসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে’ বলেন তিনি।
ইতোমধ্যে গত বছর আমরা বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি প্রদর্শন করেছি। এখন আমরা দেখাতে চাই, আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।’
এছাড়াও রবিবার গণমাধ্যমের সাথে একটি বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়। এতে জানানো হয়, ফাইভজি ডিজিটাল বাধাসমূহকে দূর করে একটি জাতি এবং ছোট, বড় ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাপক সুযোগ বয়ে আনবে এবং নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে সবাইকে ক্ষমতায়ন করবে। এই বিপ্লবের একটি প্রধান দিক হলো শিল্প খাতকে স্মার্ট ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর করা।
পাঁচদিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে হুয়াওয়ে। যেখানে হুয়াওয়ের বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেয়া হবে।
