নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতের প্রভাবশালী সংগঠন আসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) নির্বাচন ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। প্রশাসক নিয়োগের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলেও, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পতিত কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ ও মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ নেতৃত্বাধীন আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রশাসকের উদ্যোগ
আটাবের নির্বাহী সচিব এ এইচ এম গোলাম কিবরিয়া ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত স্মারক নং আটাব/সভা/২০২৫/৪৬৭–এর মাধ্যমে সকল প্যানেল ও জোটকে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আটাবের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। উদ্দেশ্য—আসন্ন আটাব নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।
প্রতিটি প্যানেলকে ১৫ জন প্রতিনিধির তালিকা পাঠানোর অনুরোধও করা হয়, যাতে প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করতে পারেন।
স্থগিতের দাবি, মুখোমুখি বিতর্ক
চিঠি পাওয়ার পর, ২১ আগস্ট ২০২৫–এ আরেফ–আফসিয়া নেতৃত্বাধীন “আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট” সংগঠনের প্যাডে লিখিতভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। এরপর তাঁরা ৭–৮ জন সহযোগীকে নিয়ে প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন স্থগিতের দাবি তোলেন।
প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ স্পষ্টভাবে জানান—
“সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পাদনের জন্য। আমি যত দ্রুত সম্ভব একটি স্বচ্ছ নির্বাচন শেষ করে চলে যাব।”
কিন্তু উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ, যখন আফসিয়া জান্নাত সালেহ উচ্চস্বরে বলেন—
“আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। আপনার জায়গায় অন্য কেউ আসবে।”
আর্থিক বিতর্ক ও প্রশাসক প্রবেশে বাধা
এর আগেই, ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের পর পতিত কমিটি আটাবের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৫ লাখ টাকা নগদ তুলে নেয় এবং অফিসে তালা লাগিয়ে চলে যায়। প্রশাসক ১১ আগস্ট পর্যন্ত আটাব কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি—টানা ৬ দিন তাঁকে বাইরে রাখতে সক্ষম হয় পূর্ববর্তী নেতৃত্ব।
প্রভাব ও অনিশ্চয়তার মেঘ
একদিকে সরকার নিযুক্ত প্রশাসক দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে পুরোনো নেতৃত্বের চাপ, তদবির ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটাবের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যত অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
বিশ্লেষণ: প্রভাব, অর্থ, ও নিয়ন্ত্রণের লড়াই
বিশ্লেষকরা বলছেন, আটাবের এই সংঘাত শুধুই একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়—এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর ক্ষমতা, অর্থ ও প্রশাসনিক প্রভাবের টানাপোড়েনের প্রতিচ্ছবি। সরকারি নিয়ন্ত্রণ বনাম ব্যক্তিগত প্রভাব—এই দ্বন্দ্বই হয়তো নির্ধারণ করবে আটাবের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
আটাব নির্বাচন কি শেষ পর্যন্ত অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, নাকি প্রভাবশালী প্যানেলগুলোর চাপেই আবারও স্থগিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা।
