নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইলফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) এনইআইআর নিয়ে বাজারে ছড়ানো অপতথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, এনইআইআর বাস্তবায়ন না হলে দেশের রফতানিমুখী মোবাইল খাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তবে স্থানীয় উৎপাদকরা জানিয়েছেন, বাস্তবায়ন হলেও দাম বাড়বে না।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি জানিয়েছে, এনইআইআর চালু হলে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।
ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশনের রাহুল কাপুরিয়া বলেন, বিপনন ব্যবস্থায় বৃহৎ জনগোষ্ঠী কাজ করে, দেশের ৯৫ শতাংশ বিক্রেতাই বৈধ ফোনের ব্যবসায় যুক্ত। তিনি সতর্ক করেছেন, মিথ্যা তথ্য ও ভুল ন্যারেটিভ তৈরি করে জনমতকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কর কাঠামো উৎপাদন ও আমদানিতে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। তিনি জানান, ভোক্তা সুরক্ষা এবং চোরাই মোবাইলের মাধ্যমে অপরাধ কমাতে এনইআইআর কার্যকর হবে এবং কোনো প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
শাওমির বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী মন্তব্য করেন, যারা আজ কর ফাঁকি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলছেন, বাস্তবে তা সত্য নয়। বর্তমানে এই খাতকে সম্ভাবনাময় রফতানি খাত হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, কিন্তু অপতথ্য ছড়িয়ে শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে এমআইওবি কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীরা মিস ও ডিস ইনফরমেশনের কবলে পড়ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্য এখন যাচাই করা জরুরি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রে আমদানি বন্ধ হলে ভোক্তারা অফিসিয়াল পিআই মূল্যের চেয়ে কম দামে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কিনতে পারবেন। আন্দোলনকারীদের জন্য ১০ শতাংশ কমিশন প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসার সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে। দেশে বর্তমানে ১২ হাজার মোবাইল দোকান রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ এমআইওবির সঙ্গে ব্যবসা করছে। আন্দোলনের মধ্যে বসুন্ধরা সিটি মার্কেট ও যমুনা ফিউচার পার্ক ছাড়া সব দোকান খোলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিভো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইমাম উদ্দীন, স্যামসাং এবং এক্সেল টেলিকমের সেলস হেড মো সাইফুদ্দিন টিপু উপস্থিত ছিলেন।
