নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বা বিসিসির নামে ভুয়া প্রশিক্ষণ প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
২১ জুলাই মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিসি জানায়, একটি প্রতারক চক্র বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন)-এর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে “তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নগর এবং গ্রামের জীবন-যাত্রার আধুনিকীকরণ” শীর্ষক একটি কথিত প্রকল্পের নামে ভুয়া প্রশিক্ষণসংক্রান্ত চিঠি, নোটিশ এবং বিভিন্ন জাল কাগজপত্র প্রচার করছে।
বিসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভুয়া চিঠিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নামে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি বিসিসি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পরিচালিত সব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সরকারি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। কোনো প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ পরিচালিত হলেও প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে বিসিসি কখনোই কোনো ধরনের ফি, রেজিস্ট্রেশন চার্জ বা অর্থ গ্রহণ করে না।
বিসিসি আরও জানায়, প্রতারক চক্রটি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রস্তাব বা চিঠি পেলে তা যাচাই না করে কোনো অবস্থাতেই আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করলে তার দায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বহন করবে না। তাই যেকোনো প্রশিক্ষণ, প্রকল্প বা সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিসিসির সরকারি ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত প্রশিক্ষণসংক্রান্ত চিঠিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়, মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ জমা এবং নির্দিষ্ট ই-মেইলে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বিসিসির সর্বশেষ সতর্কবার্তায় এসব কার্যক্রমকে অননুমোদিত ও প্রতারণামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার এমন অপচেষ্টা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো চিঠি বা অর্থ লেনদেনের অনুরোধ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
