ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বিডিনগের যৌথ আয়োজনে চতুর্দশ বিডিনগ সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
কক্সবাজারে লং বীচ হোটেল গত ২৭-৩০ জুন ২০২২ তারিখ পর্যন্ত ৪ দিন টেকনিক্যাল কর্মশালা এবং ০১ জুলাই সারাদিন ব্যাপি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যাম সুন্দর সিকদার, চেয়ারম্যান, বিটিআরসি। তিনি তার বক্তব্যের প্রথমেই সকল আইসপি সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ আমার ভাল লাগে। টেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।
তিনি বলেন, আপনারা যখন ট্রেনিং প্রোগ্রাম করবেন বিটিআরসিকে পাশে রাখবেন। যৌথ ভাবে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনে আমাদের নিজেদেরকেও আরো সুসংহত করবে। আইএসপিএবি সভাপতির দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক বিভাগ বা জেলায় ট্রেনিং প্রোগ্রাম আয়োজনে পার্টনার হিসেবে থাকব এবং আয়োজনে সহযোগীতা করব। আইটিইএস নিয়ে যে সব দাবি উল্লেখ করেছেন আমরা এই যুক্তি সংগত দাবির প্রতি একমত। আইটিইএস দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করব। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে ডিও লেটার এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা যথাযথ চ্যানেলে এনবিআরের সাথে আলোচনা করব। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান ।
সম্মেলনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো: মুহিউদ্দিন আহমেদ, কমিশনার, বিটিআরসি, তিনি তার বক্তব্যে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সম্মেলনের সাথে বিটিআরসিকে সম্পৃক্ত করায় আমরা গর্বিত।
আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, প্রথম থেকে চতুর্দশ সম্মেলন পর্যন্ত আইএসপিএবি ও বিডিনগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত দুই বছর করোণাকালীন সময়ে আমরা কোন ট্রেনিং করতে পারি নাই। আমরা আশা করি এই প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরী হবে এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন ,সারা বাংলাদেশে আমাদের ২০০০ মেম্বার রয়েছে। বেশির ভাগ মেম্বারই ঢাকার বাহিরে অবস্থিত। বিটিআরসি যদি প্রত্যেক বিভাগ বা জেলা শহরে সরকারী ভাবে ভেনুর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে প্রশিক্ষণ পরিচালনার মাধ্যমে আমরা IPv6 Deployment করতে পারব বলে আশা করছি।
তিনি আরো বলেন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে আমাদের ইন্টারনেট শিল্পকে আইটিইএস এর আওতায় আনা হয়নি।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্তে অনুষ্ঠিত গত ডিজিটাল টাক্সফোর্স এর ৩য় সভায় আমার উত্থাপিত ইন্টারনেট সেক্টরকে আইটিইএস এর অর্ন্তরভূক্ত করার প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মতি প্রদান করা সত্তেও বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধান অতিথি এ বিষয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। তাছাড়া ইন্টারনেটের উপর ১০ ভাগ এআইটি আরোপ করায় সারা দেশে এক দেশ এক রেট বাস্তবায়ন হুমকির মূখে পরবে। এবং ইন্টারনেটের দাম বৃদ্ধি পাবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিডিনগের সভাপতি এফ এম রাশেদ আমিন বিডিনগ সম্মেলন ০১ থেকে বিডিনগ সম্মেলন ১৪ পর্যন্ত সকল কার্যক্রম তুলে ধরেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সুব্রত রায় মৈত্র, ভাইস চেয়ারম্যান, বিটিআরসি, ইঞ্জিনিয়ার মো: মুহিউদ্দিন আহমেদ, কমিশনার, বিটিআরসি, আবু সাইদ দিলজার হোসেইন, কমিশনার, বিটিআরসি, মো: মেসবাহুজ্জামান, মহাপরিচালক, বিটিআরসি, আশিষ কুমার কুন্ডু, মহাপরিচালক, বিটিআরসি, বিভীষণ কান্তি দাশ, এডিসি, শিক্ষা, কক্সবাজার জেলা, নাজমুল করিম ভূঁঞা, মহাসচিব, আইএসপিএবি, ফুয়াদ মোয়াম্মদ শরফুদ্দিন, ডাইরেক্টর, আইএসপিএবি, মো: নাছির উদ্দিন, ডাইরেক্টর, আইএসপিএবি ও বিডিনগ ট্রাষ্ট্রী বোর্ডের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির।
পাঁচ দিন ব্যপী বিডিনগ-১৪ সম্মেলনে সেগমেন্ট রাউটিং এবং সিস্টেম অ্যান্ড নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষক। ১২০ জন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা প্রদান করে।
