ডিজিটাল বার্তা ডেস্ক: প্রযুক্তি জগতে একসময় গুগল, মাইক্রোসফট বা সেলসফোর্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল একচ্ছত্র আধিপত্যে। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে নিঃশব্দে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ভারতীয় সফটওয়্যার জায়ান্ট জোহো (Zoho)।
দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া জোহো আজ ১৯০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোম্পানির দাবি—তাদের ১০ কোটি ব্যবহারকারী বর্তমানে নিয়মিতভাবে জোহোর বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবা ব্যবহার করছেন।
জোহোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সমন্বিত ক্লাউড ইকোসিস্টেম। ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সফটওয়্যার—ইমেইল, একাউন্টিং, সিআরএম, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, অফিস স্যুট, কাস্টমার সাপোর্ট—সবই এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, একজন উদ্যোক্তা চাইলে শুধু জোহো দিয়েই নিজের পুরো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শ্রিধর ভেম্বু দীর্ঘদিন ধরে “ডিজিটাল স্বাধীনতা” এবং “ডেটা প্রাইভেসি”-কে ব্যবসার মূল মূল্যবোধ হিসেবে ধরে রেখেছেন। তার মতে, “প্রযুক্তি মানুষের উপকারে আসবে তখনই, যখন সেটি তাদের তথ্যের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেবে।”
২০২৫ সালে এসে জোহো শুধু সফটওয়্যার সরবরাহকারী নয়, বরং একটি টেক দার্শনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম Zoho One এখন ৫০টিরও বেশি অ্যাপ একত্রে ব্যবহারের সুযোগ দেয়—যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এক বিপ্লবী সমাধান হিসেবে কাজ করছে।
ডেটা সুরক্ষা, ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা, এবং স্থানীয় উদ্ভাবনের প্রতি অঙ্গীকার—এই তিন মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়ে জোহো আজ প্রযুক্তি জগতে “ভারতীয় মডেল”-এর এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
