স্টাফ রিপোর্টার ।। ঢাকা, এপ্রিল ১১, ২০১৯: দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য আজ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক একটি নির্দেশিকার উদ্বোধন করেছে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিশ্ব ব্যাংক ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহায়তায় এই নীতিমালাটি প্রণয়ণ করে তারা।
দেশজুড়ে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গণমানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবনার ফসল এই কমিউনিটি ক্লিনিক। সারা দেশে এখন কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি এবং দিন দিন এই সেবা আরো প্রসারিত হচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিকিনগুলোতে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে এই নীতিমালাটির উদ্বোধন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা সুবিধার মান নির্ধার্রণ; উন্নয়ন এবং রোগীদের মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে দিকনির্দেশনা এই নীতিমালা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিশ্ব ব্যাংক ও ওয়াটার এইড’র সহায়তায় ২০১৭ সালে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয় যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত এই নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য এ বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ণে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা (সিবিএইচসি) বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি কারিগরি দল গঠন করা হয়। অংশীজনদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ওই দল গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নির্দেশিকাটি প্রণয়ন করা হয় ।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. ইউনুস আলী প্রামাণিক পদক্ষেপটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান বাড়াতে এই নির্দেশিকাটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. মাখদুমা নার্গিস।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ডা. মো. আবুল হাসেম খান, লাইন ডিরেক্টর, সিবিএইচসি ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. এডউইন সেনিজা সালভাদর, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-এর সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ড. বুশরা বিনতে আলম, ইউনিসেফ’র ওয়াশ সেকশন’র চিফ দারা জনস্টোন এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ’র দেশীয় পরিচালক ডা. খায়রুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে এই নির্দেশিকাটির গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা; পরবর্তীতে কীভাবে বৃহত্তর পরিকল্পনায় তা ব্যবহৃত হবে সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ আলোচনায় সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
