স্টাফ রিপোর্টার ।। ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০১৯ : দেশের প্রতিভাবান তিন উদ্যোক্তাকে সম্মাননা-২০১৯ প্রদান করেছে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস।
এই তিন উদ্যোক্তারা হলেন-আজিজু রিসাইক্লিং অ্যান্ড ই-ওয়েস্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, মুনলাইট পেট ফ্লেকস অ্যান্ড পেট স্ট্রিপের সিইও হাবিবুর রহমান জুয়েল ও রকমারির চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ তিন উদ্যোক্তার হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি।
এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো দেশের প্রতিভাবান উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করল বণিক বার্তা-বিআইডিএস।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
সামনের দিনগুলোতে দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও বিআইডিএসের পরিচালক ড. কে এস মুরশিদ।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের প্রত্যেককে লংকাবাংলা ফিন্যান্সের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পর সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কুমার বিশ্বজিত।
এক নজরে পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান
রকমারি ডট কম
পছন্দের বই পাঠকের জন্য দেশের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে দিতে ২০১২ সালে যাত্রা করে রকমারি ডট কম। বই কেনার এই অনলাইন প্লাটফরমে কাজ করছেন ১৩০ জন কর্মী। শিক্ষা যেমন মৌলিক অধিকার, তেমনি শিক্ষার প্রধানতম মাধ্যম বইও সঠিক সময়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়াকে নিজেদের অঙ্গীকার বলে মনে করে রকমারি পরিবার। এই এডুকেশন প্ল্যাটফরমটির প্রতিষ্ঠাতা মো. মাহমুদুল হাসান। সারাদেশে আড়াই লাখের বেশি পাঠক রয়েছে রকমারি ডট কমের।
আজিজু রিসাইক্লিং অ্যান্ড ই-ওয়েস্ট কোম্পানি লিমিটেড
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পরিবেশদূষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ই-বর্জ্য। দূষণ না ছড়িয়ে বিভিন্ন ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে আজিজু রিসাইক্লিং অ্যান্ড ই-ওয়েস্ট কোম্পানি লিমিটেড। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়ায় ২০১২ সালে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি। স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে এখানে কাজের সুযোগ হয়েছে ৩০০ কর্মীর। আজিুজর প্রতিষ্ঠাতা মো. আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।
মুন লাইট পেট ফ্লেকস অ্যান্ড পেট স্ট্রিপ ইন্ডাস্ট্রি
স্নাতকোত্তর শেষ করে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১১ সালে প্লাস্টিকের বোতল রিসাইকেল করার কারবার শুরু করেন মো. হাবিবুর রহমান জুয়েল। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করে তা থেকে প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল তৈরি করতে পেট ফ্লেকস অ্যান্ড পেট স্ট্রিপ ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ২০১২ সালে চীন ও ভারতে নিজেদের কারখানায় উৎপাদিত পেট ফ্লেকস ও পেট স্ট্রিপ রফতানি শুরু হয়। বর্তমানে চীনে প্রতিমাসে ২৪০ টন স্ট্রিপ রফতানি করছে মুন লাইট পেট ফ্লেকস অ্যান্ড পেট স্ট্রিপ ইন্ডাস্ট্রি।
