নিজস্ব প্রতিবেদক, ডিজিটাল বার্তা : সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে একযোগে শুরু হলো ডিজিটাল কোরবানির হাট। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জনসমাগম ও ভোগান্তি কমাতে তৃতীয় বারের মতো এই আয়োজন।
রবিবার বিকেলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ৬৪ জেলায় ডিজিটাল পশুর হাটের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
এক ক্লিকে গরু যাবে হাট থেকে হাটে’ এমন ভাবনায় চালু হওয়া কোরবানি পশুর হাটে সকল জেলা ও উপজেলা হতে হাটগুলো প্লাটফর্মের (digitalhaat.gov.bd) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শ ম রেজাউল করিম বলেন, একটা সময় পশু আসত ভারত-মিয়ানমার থেকে। কিন্তু এখন দেশেই বিপুল সংখ্যক পশু আছে। চাহিদার চেয়েও বেশি পশু আছে। পশু পছন্দ না হলেও ফেরত দিতে পারবেন ক্রেতা। ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশনও অনলাইনে হওয়ার কারণে ঝুঁকিও নাই এখন।
মন্ত্রী বলেন, এখন দরকার হলো কেউ যেন প্রতারিত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। কেউ প্রতারিত হলে দ্বিতীয়বার কেউ আগ্রহী হবে এখানে সংযুক্ত হতে। কোনো হাছিল নেওয়া যাবে না।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বাড়ি বা রাস্তা থেকে পশু কিনলে হাসিল নেওয়া যাবে না। সড়কে কোথায় পশু পরিবহনে সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারা দেশে কোরবানির পশু আনা-নেওয়া করার জন্য ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে।’
আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, লাইভ হাট থাকবে। ভিডিও কলে পশু দেখা যাব এবং আপডেট দেওয়া হবে প্রতিনিয়ত। ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও যশোরে জবাইসহ সবধরনের সেবা দেওয়া হবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এটুআই প্রকল্পের হেড অব ই-কমার্স রেজোয়ানুল হক, ই-ক্যাবের সভাপিতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ইউএনডিপির প্রতিনিধি কাজল চ্যাটার্জি, বিডিএফএ সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের ডিজি হাফিজুর রহমান, ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহে আলম, এটুআইয়ে প্রকল্প পরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল হাটের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক পশু খামারি যুক্ত হয়েছেন। গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট ও মহিষকে প্রাণীর ক্যাটাগরি হিসেবে ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছে। ডিজিটাল হাটে পশু বেচাকেনা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো পরিচালিত ডিজিটাল হাটে ২৭ হাজার পশু বিক্রি হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু বিক্রি হয় ডিজিটাল হাটে। এবারের ডিজিটাল পশু হাটের ওয়েবসাইটে গ্রহাকের অভিযোগ জানানোরও ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া আছে অনলাইন পেমেন্টে সিস্টেমের সুবিধা। অনলাইন হাট থেকে পশু কিনে নিয়ে যাওয়া একটি বিরাট সমস্যা। কিন্তু ডিজিটাল হাটের উদ্যোগে পশু শিপমেন্টের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া মাংস প্রসেসিং করার জন্য রয়েছে কসাইয়ের ব্যবস্থাও।

জানা গেছে, আইসিটি বিভাগ, একশপ-এটুআই, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও ই-ক্যাব আয়োজন করেছে এই কেন্দ্রীয় অনলাইন কোরবানি পশুর হাটের। সহযোগিতায় রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)।
উদ্বোধনের পর ডিজিটাল হাট ‘আনন্দ মেলা’ থেকে ৭১ হাজার টাকা দিয়ে ১৫০ কেজি ওজনের দুই বছর বয়সের গরু কেনেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গরু বিক্রেতার বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। এই কোরবানির মাংস ই-ক্যাবের মাধ্যমে সিলেটের বন্যার্তদের মধ্যে দান করে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
