মাহবুবুর রহমান, ঢাকা ৩ এপ্রিল, ২০১৯: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বসে এশিয়ার সেরা ৩০ তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি। তারা হলেন- অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হোসেইন ইলিয়াস এবং কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু।
ভিন্ন ভিন্ন ১০টি ক্যাটাগরিতে ৩০ জন করে টানা চতুর্থবারের মতো এ তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। চলতি বছর এশিয়া প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চলের ২৩টি দেশের প্রায় কয়েক হাজার তরুণকে নিয়ে জরিপ করে এই ৩০০ জনকে নির্বাচন করে ফোর্বস এশিয়া।
এর মধ্যে ফোর্বসের কনজুমার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে ৩০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন হোসেইন ইলিয়াস এবং মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টিজিং ক্যাটাগরির ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন আবদুল্লাহ আল মোরশেদ।
মোরশেদ মিশু নামে কার্টুন আঁকেন আবদুল্লাহ আল মোরশেদ। তাঁর সম্পর্কে ফোর্বস বলেছে,২০১৮ সালের শুরু থেকে মোরশেদ তাঁর ‘দ্য গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ সিরিজে ভয়ংকর ও মানবিক বিপর্যয়ের ছবিগুলোকে সুখের ছবিতে রূপান্তর করেছেন। এই সিরিজে এখন পর্যন্ত ১১টি ছবি এঁকেছেন তিনি। যুদ্ধের মর্মান্তিক ও যন্ত্রণাকর ছবিগুলো তার কলমের মাধ্যমে রূপ নিতে থাকে হাসি-আনন্দ ভরা শিল্পকর্মে। মিশুর আশা ছিল তার কর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য যদি না থাকতো, তাহলে কতো সুন্দর হতো পৃথিবীটা।
মোরশেদ মিশু বর্তমানে রম্য ও কার্টুন সাময়িকী মাসিক উন্মাদ–এর সহকারী সম্পাদক।
পাঠাওয়ের সহ প্রতিষ্ঠাতা হোসেইন ইলিয়াসের বিষয়ে বলা হয়েছে, সিফাত আদনানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাঠাও প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাংলাদেশে শীর্ষ রাইড শেয়ারিং, খাবার সরবরাহ ও পন্য আদান-প্রদানের সেবা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে পাঠাওয়ের মোটরবাইক ও গাড়ি নেপালের কাঠমান্ডুসহ বাংলাদেশের পাঁচটি শহরে মোট ৫০ লাখ গ্রাহককে সেবা প্রদান করছে। চার দফায় প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে। আর বর্তমানে পাঠাওয়ের মূল্য দাড়িয়েছে ১০ কোটি ডলার। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ‘গো-জেক’। ইলিয়াস স্বপ্ন দেখেছিলেন, পাঠাও হবে বাংলাদেশের সুপার অ্যাপ।
ফোর্বস জানিয়েছে, এবারের তালিকা তৈরিতে শুধু উদ্যোক্তা হিসেবে সফল ব্যক্তিদেরই নির্বাচন করা হয়নি। বিশেষভাবে খোঁজা হয়েছে সেসব উদ্যোক্তাদের, যারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছেন; যাদের উদ্ভাবন ও প্রচেষ্টা শুধু নিজ দেশ বা অঞ্চলে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তনই আনছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী একটি ইতিবাচক প্রভাব রাখার পথে কাজ করছে।
ফোর্বসের ওয়েবসাইটে ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ শীর্ষক এ তালিকায় অনূর্ধ্ব-৩০ বছরের এসব উদ্যোক্তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও প্রকাশ করা হয়েছে।
