নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকার দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, নৈতিক ও প্রজন্মবান্ধব রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়া, বেটিং এবং পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন ও প্রোমোশন বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। এসব কার্যক্রম দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী অনলাইনে জুয়া বা বেটিং সম্পর্কিত ওয়েবসাইট, অ্যাপ, বিজ্ঞাপন বা প্রোমোশন পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং অধ্যাদেশের ধারা ২৫(১) অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি বা অনৈতিক কনটেন্ট প্রচার বা প্রচারে সহায়তাও আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রম তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনৈতিক কনটেন্ট ও জুয়া প্রচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কঠোর নির্দেশনা
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনসহ যেকোনো স্থানীয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে কোনোভাবেই পর্নোগ্রাফি, জুয়া বা বেটিং সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। এমনকি গুগল অ্যাডসেন্স, মেটা অ্যাডস বা অন্য কোনো বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার করলেও তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
একইসঙ্গে দেশের সকল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সতর্ক করা হয়েছে—তারা যেন কোনোভাবেই জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত পণ্য, ওয়েবসাইট বা সেবার প্রচার বা বিজ্ঞাপনে অংশ না নেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রচারণায় অংশ নেওয়াও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি যেকোনো ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যদি বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত কনটেন্ট প্রচার করা হয়, তবে সেই সাইটের বিরুদ্ধে ব্লকিং, জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (ISP), গুগল অ্যাডসেন্স, মেটা অ্যাডসসহ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলোকেও স্থানীয় আইন ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিল্টারিং নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখলে রিপোর্ট করুন
সরকার জানিয়েছে, দেশের যে কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট দেখতে পেলে সেটি notify@ncsa.gov.bd ঠিকানায় রিপোর্ট করতে পারবেন।
এ বিষয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যৌথভাবে কাজ করছে।
সরকার বলেছে, একটি নৈতিক, নিরাপদ ও প্রজন্মবান্ধব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অনলাইন অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
