নিজস্ব প্রতিবেদক : অনলাইন টিকেটিং পোর্টাল ‘ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল’ বিপুল গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় ছাড়ে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ভ্রমণ প্যাকেজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
রাজধানীর ভাটারার ক-৯/এ হাজি আব্দুল লতিফ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাই ফারের অফিস গত মঙ্গলবার থেকে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট এবং ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সারা দেশে ১০ থেকে ১২ হাজার সাব এজেন্ট আছে।
ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনালের বিটুবি এজেন্ট এসপিসিও ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘মঙ্গলবার পৌনে ছয় লাখ টাকার টিকিট ইস্যু করেছি। তাদের কম্পানির ব্যাংক হিসাবে এই লেনদেন করেছি। আজ সকাল থেকে তাদের অফিস বন্ধ, টিকিটও বাতিল করা হয়েছে।
অনেকের বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লাইট ছিল, টিকিট বাতিল হওয়ায় তাঁরা যেতে পারছেন না। ফ্লাই ফার কার্যালয়ের পাশে ভুক্তভোগীরা ভিড় জমাচ্ছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের সঙ্গে তিন বছর টিকেটিংয়ের ব্যবসা করছি। কিন্তু তারা আমার মতো অনেকের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছে।
তাদের এই প্রতারণায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ পথে বসবে। কিছুদিন আগে ফ্লাইট এক্সপার্ট একইভাবে প্রতারণা করে হাজারো মানুষকে পথে বসালেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গতকালও তাদের কাছ থেকে টিকিট কাটি। টাকাও দিই অনলাইনে; কিন্তু সকাল থেকে কেউ আর ফোন ধরে না। অফিসে এসে দেখি তালাবন্ধ।
সামনের ছুটির মৌসুম কেন্দ্র করে ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য অবিশ্বাস্য ছাড়ে প্যাকেজ ও টিকিটের বিজ্ঞাপন দেয়। এই বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে শত শত গ্রাহক তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।

তাহমিনা নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘সপরিবারে দুবাই ভ্রমণের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলাম। তারা বলেছিল, ভ্রমণের সাত দিন আগে টিকিট ও হোটেল ভাউচার দেওয়া হবে; কিন্তু এখন তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট বাংলাদেশের (আটাব) সদস্য বলে জানা গেছে। দেশে ওটিএ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ফ্লাইট এক্সপার্ট, ‘২৪ টিকিট ডটকম’ এবং ‘ফ্লাইট বুকিং ডটকম’সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে জড়িত।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এরই মধ্যে পুলিশ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফ্লাই ফারের সিইও নুসরাত জাহানের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
