ডিজিটাল বার্তা ডেস্ক: নামমাত্র শেয়ার ট্রান্সফারের অনুমতির জন্য বিটিআরসির পাওনা ৮৭০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে আটকে বাংলালিংক।
আর দীর্ঘ সময় ধরে অপারেটরটি এই শেয়ার ট্রান্সফার করতে না পারায় নানা জটিলতার মধ্যে পড়ছে।
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান জানান, তারা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে তাদের প্রেক্ষাপট জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এই শেয়ার ট্রান্সফার ঝুলে থাকায় তাদের কর্পোরেট গভর্নেন্সে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অথচ এই শেয়ার ট্রান্সফারে কোনো আর্থিক লেনদেন হচ্ছে না এবং বাংলালিংকের কার্যক্রমেও কোনো পরিবর্তন আসছে না।
বিটিআরসি এ নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে সিদ্ধান্ত দেয়, সরকারের সব পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে এই শেয়ার ট্রান্সফারের অনুমতির সুযোগ নেই। মে মাসে বাংলালিংককে ৩০ দিনের সময় দিয়ে সব পাওনা পরিশোধ করতে বলে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এরপর জুনে বাংলালিংক এই শেয়ার ট্রান্সফারের মূল্যমান ও তাদের বাস্তবতা তুলে ধরে শেয়ার ট্রান্সফারের অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করে।
সবশেষ চলতি অক্টোবরে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারের এই পাওনা বাংলালিংক কীভাবে পরিশোধ করবে তা অপারেটরটির সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ করা হবে। তবে শেয়ার ট্রান্সফারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি যে, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি এখনই দেয়া হবে না পাওনা পরিশোধের পরে।
পাওনা নিয়ে তাইমুর রহমান বলেন, তারা কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই আইএসএ অডিটে দাবি করা মূল টাকার পুরোটাই পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা পরিশোধেও তারা বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করছেন। স্পেকট্রাম চার্জের টাকা তারা কিস্তিতে পরিশোধ করে চলেছেন।
বিটিআরসি বলছে, প্রথমত লাইন্সের শর্ত অনুযায়ী মালিকানা বা শেয়ার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার লিখিত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর টেলিযোগাযোগ খাতের লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ট্রান্সফারে তাদের কাছে সরকারের পাওনা তথ্য যাচাই-বাছাই ও সরেজমিন দেখতে টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশনা আছে।
সে হিসেবে তারা পাওনা যাচাই-বাছাইয়ে দেখেছেন, বাংলালিংকের কাছে বিভিন্ন খাত মিলিয়ে এখন ৮৭০ কোটি টাকা পাওনা।
এরমধ্যে বিটিআরসির প্রতিনিধি দল বাংলালিংক সরেজমিনে পরিদর্শন করে। তারা দেখেন, নতুন শেয়ার গ্রহীতারা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সেখানে তারা বিধি অনুযায়ী ও প্রয়োজনীয় ফি নিয়ে এই শেয়ার ট্রান্সফার বিবেচনার কথা বলেন।
বাংলালিংকের শেয়ার কাঠামো ও ট্রান্সফার :
বাংলালিংক ১১ মাস আগে ১০ টাকা মূল্যের ৩০০ শেয়ার (মূল্য ৩ হাজার টাকা) হস্তান্তরে আবেদন করে। আবেদনে বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, দাতা-গ্রহীতার অঙ্গীকারনামা, অডিট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিটিআরসিতে জমা দেয়। যদিও অপারেটরটি ২০২২ সালের মার্চে এবং ২০২৩ সালের জুনে তাদের শেয়ার কাঠামোতে পরিবর্তন চেয়ে আবেদন করেছিল। তখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে।
অপারেটরটির ৮৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৩৮ টি শেয়ারের মধ্যে টেলিকম ভেঞ্চার লিমিটেডের শেয়ার ৮৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৪৩৮ টি। এর বাইরে আফজাল হুসেইন চৌধুরীর ১০০ টি, ডেভিড লেসলি ক্রিস্টোফার ডবির ১০০ টি, হাসান হেলমি ১০০ টি, ইয়োগেশ সঞ্জিব মালিক ১০০টি, জিয়াদ সাতারা ১০০ টি এবং নিজার আল আসাদ ১০০ টি।
এখন ডেভিড লেসলি ক্রিস্টোফার ডবির ১০০ টি শেয়ার ভিওন হোল্ডিংসে, ইয়োগেশ সঞ্জিবের ১০০ শেয়ার ভিওন আমস্টারডামে এবং নিজার আল আসাদের ১০০ শেয়ার ভিওন গ্লোবাল টাওয়ার হোল্ডিংসে ট্রান্সফারের আবেদন বাংলালিংকের। সূত্র : টেকশহর।
