ডিজিটাল বার্তা ডেস্ক: পাওনা নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে যেন ‘মশকরা’ করে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি আমরা টেকনোলজিস।
বিপুল অংকের পাওনা আদায়ে যখনই বিটিআরসি উদ্যোগ নেয় তখনই প্রতিষ্ঠানটি কখনও কিস্তির সুযোগ প্রার্থনা করে, বিটিআরসি কিস্তির সুযোগ দিলে তখন কিস্তির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তোলে, সেই সুযোগও দিলে এবার বিলম্ব ফি মওকুফের আবদার তারপর আবার সেই কিস্তির ফিরিস্তি।
বিটিআরসি বলছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে এখন তাদের পাওনা ২৫ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এই টাকার মধ্যে সর্বশেষ বছরের লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, লে ফি ও কর রয়েছে।
আমরা টেকনোলজিসের এমডি ও সিইও সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ টেকশহর ডটকমকে বলেন, ‘শুধু তাদের পাওনা নিয়েই কথা হয়, অন্যদের কাছে যে পাওনা আছে তা আদায়ে কী করা হচ্ছে ? আর তাদের কাছে পাওনার মধ্যে কিছু ডিসপিউট আছে। তারা এসব নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।’
ব্যান্ডউইথ ব্লক তুলে নিলে আমরা টেকনোলজিস আবার ব্যবসায় ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি।
বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাওনা পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটি সময়ক্ষেপণ করেছে। তাদের কাছ হতে পাওনা আদায়ে কী ধরনের কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া যায় তারা তারা দেখছেন।
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে বারবার নোটিশ-চেষ্টার পর পাওনা আদায় না করতে পেরে ২০২২ সালের জুলাইয়ে ৪১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বকেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ৫০ শতাংশ ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ব্লক করে বিটিআরসি। বেকায়দা দেখে ওই মাসের শেষের দিকে ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করে তারা। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা তখন ব্লক তুলে নেয়।
এর কিছুদিন পর বিটিআরসি প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ বকেয়ার ২৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ২৪ টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়। আমরা প্রথমে ১০ টি কিস্তি পরিশোধ করে তারপর কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এবার বাকি টাকা ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আদায়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিটিআরসি আবার নোটিশ দেয়।
এবার কিস্তির আবেদন করে আমরা টেকনোলজিস। ৩৬টি কিস্তিতে এই টাকা দিতে চায় তারা। বিটিআরসি এর একমাস পর ডিসেম্বরে তখন ৮০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ব্লক করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি আবারও সেই কিস্তির আবেদন করে। এবার বিটিআরসি ১০ কোটি টাকা এককালীন দিয়ে বাকি টাকা ১৮টি কিস্তিতে দেয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু আমরা টেকনোলজিস আর পাওনা দেয় না। শেষে বিটিআরসি চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ ব্যান্ডউইথ ক্যাপিং করে দেয়।
এর কয়েকমাস পর চলতি বছরের জুনে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে আমরা টেকনোলজিস জানায়, হালনাগাদ নতুন হিসাবে বিটিআরসির পাওনা ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার মধ্যে ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ৩ কিস্তিতে দেবে আর বাকি টাকা ২৫ টি মাসিক কিস্তিতে দেবে। তবে ক্যাপিং প্রত্যাহার হবে।
এবার বিটিআরসি তাদের দাবি বিপরীতে প্রাপ্তি বরং আরও সহজ করে দেয়। সিদ্ধান্ত দেয়া হয় ৮ কোটি এককালীন পেমেন্ট এবং বাকি টাকা ২৫টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
কিন্তু আমরা টেকনোলজিস সেই আগের ফিরিস্তিতে। তারা পাওনা পরিশোধ না করে আবারও আবেদন করে। সেখানে তারা ৫ কোটি টাকা এককালীন দিয়ে ব্লক প্রত্যাহার চায় ও ৪ মাস পর বাকি টাকা ৩৬টি কিস্তিতে দেয়ার কথা বলে। আর তাদের বিলম্ব ফি মওকুফ করে দিতে হবে।
সর্বশেষ তারা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আবারও আবেদন করে। সেই ক্যাপিং প্রত্যাহার দাবি। এবার ক্যাপিং প্রত্যাহারের ৬ মাস পর ৪৮টি কিস্তির আবদার, সঙ্গে বিলম্ব ফি মওকুফ।
বিটিআরসি এবার এসে বুঝতে পারে এই প্রতিষ্ঠানটি আমরা টেকনোলজিসের সময়ক্ষেপণের টালবাহানা। বিটিআরসি দেখে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ আবেদনের সঙ্গে তার লাইসেন্সের মেয়াদ বিবেচনায় এ আবেদন বাস্তবসম্মত নয়। সূত্র : টেকশহর
