ডিজিটাল বার্তা ডেস্ক: ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ বা ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করিয়েছে বিটিআরসি। কিন্তু স্বাধীন কমিশন হয়েও কেন নির্দেশ শুনল বিটিআরসি ! রোববার প্রথমবারের মতো বিটিআরসিতে গিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে এমন জিজ্ঞাসা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের।
বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে বিটিআরসি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে সভায় বক্তব্য দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) মো. এমদাদ উল বারী।
নাহিদ ইসলাম বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল নায়ক এদেশের জনগণ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী। তাদের আন্দোলনের ফলেই আমি বেঁচে আছি। সাধারণ মানুষরাই মূলত রাজপথে নেমে এসে আমাদের নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। আমি আজকে সেই জনগণ এবং আন্দোলনে শহীদ ও হতাহতদের গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এটাই আকাঙ্খা থাকবে এবং আপনারা এখানে যারা আছেন তারা সেই ঘটনার সময়ে সাক্ষী। তো সবাইকে সেটাই বলবো আমরা যাতে পিছনে ফিরে না যাই এবং আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ পিছনে ফিরবে না।
‘বিটিআরসিতে নানান সমস্যা, যেগুলো গত ১৬ বছর তৈরি হয়েছে সমাধান হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু বিটিআরসি নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। কারণ গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাই এই পর্যায়ে আছে। সেই জায়গা হতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছি।’মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সবকিছুতেই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা দেখি। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সিস্টেম কোথাও ডেভেলপ হয়নি, দলীয়করণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান চলবে রুলস-রেগুলেশনস দিয়ে, সেখানে ব্যক্তি চাইলেও সম্ভব হয় না প্রতিষ্ঠানকে দূষিত করা। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু প্রতিষ্ঠান না মূলত ব্যক্তি নির্ভর ফলে ব্যক্তি কতোটা সৎ হবে ব্যক্তির উপরই সেটা নির্ভর হয়ে পড়ে।’
গত ১৬ বছর ধরে আমরা এটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ছিলাম যার হাত থেকে সমাজের কোন স্তর বা অংশ রেহাই পায়নি। বিটিআরসি তে গত ১৬ বছর নানা সমস্যা ছিল যা সমাধান হয়নি, অনেক দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে। বিটিআরসি নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই কারণ গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সে জায়গা থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই।
উপদেষ্টা বলেন, এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি এতে সারা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সবার মধ্যে একটি ধারনা জন্মেছে যে আমরা এখনই পারবো নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
আমাদের দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো গড়ে ওঠেনি। প্রাতিষ্ঠানিক কোন সিস্টেম ডেভেলপ হয় নাই। প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো গড়ে উঠলে কোন ব্যক্তি চাইলেও তার ওপর কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা হয়েছে। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ব্যক্তির ক্ষমতা প্রয়োগের চর্চা করা হয়েছে। এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক এ কাঠামোর নীতি এবং আইন যদি আমরা সংস্কার করতে না পারি তাহলে আমূল পরিবর্তন বলতে আমরা যা বুঝি তা কখনোই আসবে না।
বিটিআরসি সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে গণহত্যা চালানো হয়েছে, গুম করা হয়েছে যার সঠিক তথ্য আমরা এখনো পাচ্ছিনা। আমাকেও গুম করা হয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস আজ আমি সেই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এবং সেখানেই দাঁড়িয়ে কথা বলছি। বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন,আমরা যাতে পিছনে ফিরে না যাই এবং আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ আর পিছনে ফিরবে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি তরুণ প্রজন্ম যে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায় বা রাষ্ট্রব্যবস্থায় তারা যে পরিবর্তন চায় তা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। তাই মানসিকতা পরিবর্তন করে সবাইকে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করতে আহ্বান জানান উপদেষ্টা। মানুষের একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে যে কেউ চাইলেই আর সে আকাঙ্ক্ষার বাইরে যেতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময়কালে বিটিআরসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
