স্টাফ রিপোর্টার ।। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি গ্রহণে এক পা ও পিছিয়ে থাকবে না বাংলাদেশ। তবে এগিয়ে যাওয়ার পথে দেশের তরুণরাই হবে মূল চালিকাশক্তি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিডস ফর দ্যা ফিউচার ২০১৯ এর গালা রাউন্ড অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চীনা মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলোজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং জেনজুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চীনা দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উপদেষ্টা লি ওয়াংজুন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে দৃষ্টান্ত তৈরি করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বিশ্ববাসীকে ডিজিটাল কর্মসূচির সাথে পরিচিত করেছেন। তার এক বছর পর ভারত সরকার এবং পরবর্তীতে তারও ছয় বছর পর ব্রিটেন সরকার ডিজিটাল কর্মসূচি গ্রহণ করে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফাইভ প্রযুক্তি চালু করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্ভব হলে এর আগেও চালু করা হবে অধ্যাধুনিক প্রযুক্তি ফাইভজি। আমরা ফাইভজি চালুর ক্ষেত্রে এক দিনও পিছিয়ে থাকতে চাই না।
মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীতে প্রচলিত অর্থনীতির ধারা, যেটাকে আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতি বলি, সেটা কে অনুসরণ না করে ভিন্ন ধারায় এগিয়ে অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করেছে চীন। ধন সম্পদ অর্জন করাই শ্রেষ্ঠতা নয়। বরং সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন প্রকৃত সফলতা এনে দেয়। চীনের এই সফলতার অন্যতম কৃতিত্ব তাদের জনগণের। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সামনের দিকে যদি যেতে হয় তাহলে নব নব আবিষ্কার ও প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। আমরা ‘ ই ‘ যুগ পার করে ‘D’ যুগে প্রবেশ করেছি। ই ছিল ইলেকট্রনিক আর এখন ডিজিটাল যুগ।
এসময় সিডস ফর ফিউচার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট ও চুয়েটসহ মোট পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সিডস ফর দ্যা ফিউচার ২০১৯ এর একটি অডিও ভিজুয়্যাল দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী লিমিটেড (বিটিসিএল), এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থতি ছিলেন।
পরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে সিডস ফর ফিউচার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চলতি বছর পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়শজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বাছাই করা হয়। এর মধ্য থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫জন করে মোট ৭৫জন শিক্ষার্থী। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মোট দশ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে সিডস ফর দ্যা ফিউচার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে হুয়াওয়ে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশে আয়োজিত হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। বিশ্বব্যাপী ৩৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যাদের মধ্যে তিন হাজার ছয়শ শিক্ষার্থীকে হুয়াওয়ের হেডকোয়ার্টারে শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের চীনে হুয়াওয়ে প্রধান কার্যালয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনে উদ্ধুদ্ধ করার পাশাপাশি সারা বিশ্বকে “বেটার কানেক্টেড ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড” হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে হুয়াওয়ে।
