নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিয়মকানুনই যেন শুধু কাগজে-কলমে! বাস্তবে এক ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত’ প্রতিষ্ঠানের জন্য সব নিয়মের বাঁধ ভেঙে দিল বিটিআরসি।
আল আওয়াফ টেকনোলজিস লিমিটেডের হাতে জাতীয় ক্যাটাগরির আইএসপি লাইসেন্সের নীতিগত অনুমোদন তুলে দেয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন।
কীভাবে ভাঙা হলো নিয়মের প্রাচীর?
২০২৩ সালে বিটিআরসি ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করেছিল লাইসেন্স ইস্যু অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলআইএমএস)। ঘোষণা এসেছিল—হার্ডকপিতে আবেদন নিষিদ্ধ; কেবল অনলাইনেই গ্রহণ হবে সব আবেদন। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কঠোরভাবে এই নিয়ম কার্যকরের কথা বলা হয়েছিল। তবে সেই ঘোষণার মাত্র ১০ দিন পরই, ১১ ফেব্রুয়ারি, আল আওয়াফ টেকনোলজিসের আবেদন গ্রহণ করা হয় পুরনো সেই হার্ডকপি মাধ্যমেই!
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
বিটিআরসির বিদ্যমান নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—জাতীয় ক্যাটাগরিতে নতুন করে কোনো লাইসেন্স ইস্যুর সুযোগ নেই। কারণ, ইতিমধ্যেই এই ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত সংখ্যক আইএসপি রয়েছে। তারপরও, নিয়মের ছাতাটা সরিয়ে আল আওয়াফ টেকনোলজিসের জন্য লাইসেন্সের নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কাদের ঠকানো হলো এই ‘বিশেষ সুবিধায়’?
দেশের বহু আইএসপি প্রতিষ্ঠান, যাদের হাজারো গ্রাহক রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে জাতীয় ক্যাটাগরিতে আপগ্রেডেশনের আবেদন জমা দিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের আবেদন ঝুলিয়ে রেখে একেবারে নতুন আবেদনকারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হলো।
প্রশাসনিক স্তরের অবস্থান কী?
বিটিআরসির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্পষ্টভাবে বলেন, “আমার টেবিলে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি। অনিয়মের গন্ধ পেলেই তা অনুমোদনের সুযোগ নেই।”
স্মরণযোগ্য ঘটনা:
এর আগে, বিসিএস নেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের হার্ডকপি আবেদন নেয়ার ঘটনায় বিটিআরসি নিজেই এক কর্মকর্তাকে সতর্ক করেছিল। তখন বলা হয়েছিল, এতে আবেদনকারীকে অন্যায় সুবিধা দেয়ার অবকাশ তৈরি হয়। কিন্তু এবার, নিজেদের হাতেই সেই একই অনিয়মের ছায়া ফেলে দিয়েছে বিটিআরসি।
সূত্র: টেকশহর
