নিজস্ব প্রতিবেদক: আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দক্ষ মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ ও বিনিয়োগের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের সাফল্য শুধু সনদ বা প্রশিক্ষণের সময় দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ চাকরি পেলেন কি না, ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হলেন কি না, উদ্যোক্তা হলেন কি না এবং অর্জিত দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারলেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রশিক্ষণ-পরবর্তী আফটার কেয়ার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় শিল্পখাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী তৈরির পাশাপাশি চাকরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোতে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, কারিগরি সহায়তা, ব্যবসা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিনিয়োগকারী এবং শিল্প সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া-ইনোভেশন-ইনভেস্টমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারি অব্যবহৃত স্থাপনা ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইটি সেন্টারগুলোর অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ইউটিলিটি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মানকে সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিং সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্দেশিকায় শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত কারিকুলাম হালনাগাদ এবং প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কার্যক্রম ডিজিটালভাবে ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য অনুপম বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
