জনগণের কাছে ডিজিটালই সেবা পৌছাতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
সোমবার রাতে গাজীপুরে টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের ৬৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রযুক্তি গ্রহণে বাংলাদেশ তিনশ ২৪ বছর পিছিয়ে ছিলো উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামী দিনে প্রযুক্তি গ্রহণে কোনভাবেই অবহেলা করার বা বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি চালু করার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশ এতোদিন পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ ফাইভজি চালু করার ব্যাপারে যেখানে এখনো চিন্তাই করেনি, সেখানে বাংলাদেশ ফাইভজি’র সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ফাইভজি চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনভাবেই একদিনও পিছিয়ে থাকবে না। বর্তমানে ফোরজি চালু করার জন্য যে ধরনের নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে তা দিয়ে আগামীতে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ফাইভজি প্রযুক্তি প্রচলন করা সম্ভব হবে বলেও জানান মোস্তাফা জব্বার। আর তখন ইন্টারেটের গতি হবে ২০ জিবিপিএস। যা দিয়ে অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হবে দেশের তরুণ প্রজন্ম।
প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারের ২ হাজার ৭শ ৬০ টি সেবা ডিজিটাল করা দরকার, এর মধ্যে নয়শটি সেবা জনগনের কাছে পৌছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। সরকারি সকল সেবা ডিজিটাইজেশন করা সম্ভব হলে টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষ নেওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলেও দাবী করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রচলন না করায় সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের সংখ্যা বাড়ছে না। তিনি জানান, এজন্য আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা হচ্ছে সরকারকে ডিজিটাল করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের সংখ্যা বাড়ানো।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন রকম কাগজ পত্র ছাড়াই প্রতি মাসেই এক হাজার ২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়। ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরো বাড়বে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ডিজিটাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। এখন বিশ্বের অন্য দেশগুলো ডিজিটাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে বলেও দাবী করেন মোস্তাফা জব্বার।
টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের মহাপরিচালক খান আতাউর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ডাক) মো: মুহিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নেতৃত্বের গুনাবলী বজায় রেখে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান জনগনের কল্যাণে কাজ লাগাতে প্রশিক্ষনার্থীদের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।
